নিজের ভুলে বা যেকোন কারণে হোক বিদেশ ভ্রমণে আপনার পাসপোর্ট হারিয়ে যেতে পারে বা নষ্ট হতে পারে,সম্প্রতি শ্রীলংকা ভ্রমণে আমার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। আমি কিভাবে ট্রাভেল পারমিট জোগাড় করে দেশে ফিরেছি সে অভিজ্ঞতার আলোকে আজকের ব্লগ পোস্ট।
পাসপোর্ট
হারালে সর্বপ্রথম নিকটতম বা আপনার সুবিধাজনক যেকোন থানায় গিয়ে পাসপোর্ট
হারিয়েছেন সেটা উল্লেখ করে জিডি করতে হবে। এক্ষেত্রে যে থানায় যাবেন সে
থানার নিকটতম জায়গা উল্লেখ করবেন যে আনুমানিক এ জায়গায় হারিয়েছি। ধরেন আপনি
পাসপোর্ট হারাইছেন কুমিল্লা বাট গেলেন নোয়াখালী জিডি করতে থানা হয়তো বলতে
পারে যে কুমিল্লা গিয়ে জিডি করেন । তাই বেটার হলো যে থানায় যাবেন সে
এলাকাতে হারিয়ে ফেলছেন সেটা বলা।
দ্বিতীয়
কাজ হলো বাংলাদেশ হাই কমিশনে যাওয়া , জিডি কপি ,পাসপোর্টের ফটোকপি , ২ কপি
পাসপোর্ট সাইজের ছবি ,ভিসার ছবি থাকলে ভিসার ছবি ,এয়ার টিকেটের প্রিন্ট
কপি সহ সরাসরি এম্বেসিতে যোগাযোগ করবেন।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ এম্বেসীর
নাম্বার অনলাইন থেকে জোগাড় করে আগে একবার কথা বলে নিতে পারেন। তাদের সাজেশন মতো কাজ করলে হ্যাসেল কম হবে।
বাংলাদেশ
এম্বেসী নির্দিষ্ট ফি প্রদান সাপেক্ষে ট্রাভেল পারমিট দিবে যেটা একটা ফর্মের মতো যেটার সাহায্যে
আপনি দেশে ফিরতে পারবেন। ট্রাভেল পারমিট পেতে নির্দিষ্ট একটা ফী দিতে হয় যেমন শ্রীলংকাতে বাংলাদেশী টাকায় ২০০০ টাকা ফী
দিতে হয়েছে।
এক্ষেত্রে খেয়াল
রাখবেন দেশভেদে ট্রাভেল পারমিট পাবার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মের ভিন্নতা থাকতে
পারে যেমন শ্রীলংকাতে বাংলাদেশ এম্বেসীতে সহজেই ট্রাভেল পারমিট পাবেন আবার
ভারতে বাংলাদেশ এম্বেসী চাইলেই ট্রাভেল পারমিট দিতে পারেনা তাদের আবার
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয় যেটা সময়সাপেক্ষ ও হ্যাসেল হয়।
তাই নিজের পাসপোর্ট যত্ন সহকারে রাখুন এবং যেকোন বিদেশ ভ্রমণে পাসপোর্ট ও ভিসার অতিরিক্ত কপি প্রিন্ট করে আলাদা করে ব্যাগে রেখে দিন।
স্পেশাল টিপস :
- পাসপোর্ট হারানোর পর সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে খোজার পাশাপাশি আপনার ট্রাভেল পার্টনারদের ব্যাগ সহ সবকিছু খুব ভালোবাবে চেক করে নিবেন ,যেহেতু পাসপোর্টগুলো উপর থেকে দেখতে একই অনেক সময় ভুল করে একজনের পাসপোর্ট আরেকজনের ব্যাগে চলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
- এয়ারপোর্টগুলোতে লস্ট এন্ড ফাউন্ড নামে একটা সেকশন থাকে অনলাইন থেকে সংশ্লিষ্ট এয়ারপোর্টের নাম্বার মানেজ করে সেখানেও খোজ নিতে পারেন যদি আপনার সন্দেহ হয় যে এয়ারপোর্টেও হারাতে পারে
- পাসপোর্টের সাথে আপনার ভ্রমণরত দেশের ফোন নাম্বার টি ও একটি হোয়াটসএ্যাপ নাম্বার লিখে একটা কার্ড পিন করে রাখতে পারেন এতে পাসপোর্টটি যেখানেই পাওয়া যাক সেখান থেকেই আপনার সাথে খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারবে।
এখন আরও একটা কথা আছে যে আপনি ট্রাভেল পারমিট নিলেন ,নেবার পর পাসপোর্ট পেয়ে গেলেন কি করবেন ?
যদি ট্রাভেল পারমিট নেবার পর পাসপোর্ট পেয়ে যান তাহলে ইমিগ্রেশনে জাস্ট পাসপোর্ট ইউজ করে বাকী কাজ করবেন ,আপনার ট্রাভেল পারমিট এর বিষয়ে কোন ধরনের কথা ইমিগ্রেশনে বলার প্রয়োজন নেই তখন পাসপোর্টই হবে আপনার সকল ডকুমেন্ট।
আবার ধরুন আপনি ট্রাভেল পারমিট দিয়ে দেশে ফিরে আসলেন দেশে আসার পর পাসপোর্ট পেলেন তখন কি করবেন ?
এ বিষয়ে আমার পরিপুর্ণ ধারণা নেই তবে সেক্ষেত্রে আপনি ইমিগ্রেশনে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন এবং সাথে অবশ্যই ট্রাভেল পারমিট ডকুমেন্টটি সংরক্ষণ করবেন যেটা দিয়ে আপনি ফিরে এসেছিলেন।
0 comments:
Post a Comment